কোরিয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের পর্যায়ে জাপান সাগর ও হলুদ সাগর বিধৌত পূর্ব এশীয় দেশ—কোরিয়া স্বাধীনতার ঝাণ্ডা উড্ডীন করার সংকেত শুনলেও ১৯৪৮ সালে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে খণ্ডিত কলেবর প্রাপ্ত হতে বাধ্য হয়। ৩৮ অক্ষরেখা বরাবর উত্তরাংশের জনগণ ১৯৪৮ সালে শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির পতাকা উত্তোলন করেন। উত্তর কোরিয়া তথা কোরিয় জনগণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আয়তন ১ লাখ ২১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং লোক সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ (১৯৮৩ সালের তথ্য)।
স্বাধীন-পরাধীন
পুরাতন পাথরের যুগ থেকে জনবসতির ধারক কোরিয় উপদ্বীপে খ্রীষ্টের জন্মের চার-পাঁচ শতক আগে থাকতেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল।
খ্রীষ্টের জন্মের এক শত বছরের মধ্যে পুরাতন দাস রাষ্ট্রের বদলে উপদ্বীপটিতে তিনটি সামন্তবাদী রাষ্ট্রের পত্তন হয়। অবশ্য সপ্তম শতকে দক্ষিণের সীলা সাম্রাজ্য অন্য দুটিকে গ্রাস করে নেয়। এই সময়ে সংস্কৃতির প্রভূত বিকাশ হলেও সাধারণ মানুষ তথা কৃষকের জীবনে সুখ শান্তির লেশ মাত্রও ছিল না। তাই দেখা দেয় কৃষক বিদ্রোহ। দশম শতকে এই বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিদ্রোহ দমন করা ও সামন্তবাদী শোষণ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। চতুর্দশ শতক পর্যন্ত একক কোরিয় সাম্রাজ্যের অধীনেই জনগণ শাসিত হতে থাকে।
ঐক্যবদ্ধ কোরিয় সাম্রাজ্যে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি উল্লেখযোগ্য হারে বিকশিত হয়েছিল। হস্তশিল্প বিশেষত পোরসেলিন, স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ নির্মিত দ্রব্যাদির যে নিদর্শন পরবর্তীকালে পাওয়া গেছে তার দ্বারা ঐ সমন্বয় কোরিয়ার বিকশিত সংস্কৃতির পরিচয়ই লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, জ্যোতিবিদ্যা, জাহাজ নির্মাণসহ বিবিধ ক্ষেত্রেই অগ্রগতি ঘটেছিল সে সময়ে। সেই সময়ের অগ্রসর কোরিয়বাসীর সাথে বহির্বিশ্বেরও যোগাযোগ ছিল সুদৃঢ়, এমনকি সুদূর মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল কোরিয়দের বাণিজ্যের ক্ষেত্র। সামন্তবাদী রাজবংশের এই শাসন চতুর্দশ শতকের শেষ দিকে আর একচ্ছত্র থাকল না। আমলাতন্ত্র ও জোতদারের স্বার্থের রক্ষকদের হাতে পতন ঘটল কোরিয় রাজবংশের। সিংহাসনে আসীন হলো রি রাজবংশ।
এই রাজবংশের শাসনামলে ষোড়শ শতকের শেষ দিকে প্রতিবেশি জাপান আক্রমণ করে কোরিয়া এবং তিন বছরের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। তবে ১৫৯৯ সালে দেশের স্বাধীনতা আবার অর্জিত হয় পরাজিত রাজবংশের নেতৃত্বে। এবার কৃষক বিক্ষোভের মুখে রাজা কিছু সংস্কার সাধন করে। ধানচাষের উন্নয়ন হয়, টেক্সটাইল ও হস্তশিল্প প্রসারের ব্যবস্থা হয় এবং সীমিত আকারে হলেও বুর্জোয়া বিকাশের লক্ষণ দেখা দেয়।
ইউরোপ আমেরিকার বণিকেরা অন্যান্য এশীয় দেশের মতো কোরিয়াতেও হানা দেয়। তারা শুধু বাজার দখল নয়, দেশ দখলেরও ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু জনগণ দেশীয় জমিদার-জোতদার আর বিদেশী এইসব শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে বিদ্রোহী কৃষক জনতা আমেরিকার সশস্ত্র জাহাজ ‘জেনারেল শারম্যান’কে কোরিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য করে। ১৮৭১ সালে আমেরিকার নৌবাহিনী ক্যানজোয়াদো দ্বীপ দখল করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করে। অনুরূপভাবে ফরাসী নৌবহরকেও পিঠটান দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত সংগঠনের অভাবে বেশি দিন জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ টিকে থাকেনি। রাজা ১৮৭৬ সালে জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে অসম বাণিজ্য করতে বাধ্য হয়। দেশ বিদেশী বণিকদের অবাধ বিহারের ক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়।
এই ঘটনার আট বছর পর দেশীয় বুর্জোয়াদের স্বার্থবাহী জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবীদের উদ্যোগে বিদেশী বণিকদের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে বুর্জোয়া বিপ্লবের লক্ষ্যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে বিদেশী শক্তির সহযোগিতায় রাজা এই অভ্যুত্থান দমন করে ফেলেন। অবশ্য জনতার বিশেষত কৃষক সমাজের আন্দোলন এতে নিস্তেজ হলো না। তারা গর্জে উঠলেন সামন্ত-শোষণের বিরুদ্ধে। কিন্তু ১৮১৪ সালে এই বিদ্রোহও দমিত হলো।
তবে রাজাকে এবার কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হয়।
বিশ শতকের শুরুতে রুশ-জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের পর চীনের মাঞ্চু অঞ্চল ও কোরিয়াতে জাপানের প্রভাব
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments